আন্তর্জাতিক
মক্কা চুক্তি: ফিলিস্তিনের ঐক্য কেন টিকল না

২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের মক্কায় হামাস ও ফাতাহর নেতারা যখন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘর্ষ থামানো, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রক্তপাত বন্ধ করাই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য। সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল একই টেবিলে বসে। চুক্তি অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল তারা।
কিন্তু চার মাসও পার হয়নি। জুনে গাজায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়। মাহমুদ আব্বাস ঐক্যের সরকার ভেঙে দেন। ফিলিস্তিনের রাজনীতি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে- গাজায় হামাস, পশ্চিম তীরে ফাতাহ-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
মক্কায় যে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার পরিণতি দাঁড়ায় আরও গভীর বিভাজন।
এই ব্যর্থতার পেছনে ছিল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই এবং হামাসের নির্বাচনী বিজয় ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংকট। মক্কা চুক্তি এসব বিরোধের সাময়িক সমাধান দিয়েছিল, কিন্তু মূল দ্বন্দ্বগুলো অমীমাংসিত রেখেই সরকার গঠনের পথ তৈরি করেছিল।
নির্বাচনে হামাসের জয়, ফাতাহর ক্ষমতার সংকট
২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনের আইন পরিষদ নির্বাচনে হামাস ১৩২টি আসনের মধ্যে ৭৪টি আসন পায়। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ফাতাহ পায় ৪৫টি আসন। নির্বাচনের ফলাফলে হামাস সরকার গঠনের সুযোগ পায়। ইসমাইল হানিয়া প্রধানমন্ত্রী হন।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায়। হামাস এত দিন প্রধানত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করলেও এবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়। অন্যদিকে ফাতাহ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাব ধরে রাখে।
ফলে একই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুটি শক্তিশালী "নেতৃত্বের কেন্দ্র" তৈরি হয়। হামাসের হাতে ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব। আব্বাসের হাতে ছিল প্রেসিডেন্টের পদ এবং নিরাপত্তা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রভাব। দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্নটি শুরু থেকেই জটিল হয়ে ওঠে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় আন্তর্জাতিক চাপ। হামাসের সরকারকে স্বীকৃতি ও সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কঠোর অবস্থান নেয়। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক কোয়ার্টেট হামাসের কাছে তিনটি শর্ত তুলে ধরে- ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া, সহিংসতা পরিত্যাগ করা এবং আগের চুক্তিগুলো মেনে নেওয়া।
হামাস এসব শর্ত পুরোপুরি মেনে নেয়নি। ফলে নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থায়ন নিয়ে সংকট তৈরি হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও দ্রুত খারাপ হতে থাকে।
অন্যদিকে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে প্রশাসনিক নিয়োগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ বাড়ছিল। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও হামাস পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফাতাহও নির্বাচনের ফলাফলে ক্ষমতার নতুন বাস্তবতা মেনে নিয়ে নির্বিঘ্নে কাজ করার অবস্থায় ছিল না।
রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে যখন অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্ত হয়, তখন সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
মক্কা চুক্তি: সমঝোতার ঘোষণা, কিন্তু ক্ষমতার বিরোধ অমীমাংসিত
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর মধ্যস্থতায় মক্কায় আলোচনায় বসেন হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মাশাল এবং ফাতাহর নেতা ও প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আলোচনার ফল হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে রক্তপাত বন্ধ, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন, রাজনৈতিক অংশীদারত্ব এবং ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলওকে পুনর্গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। দুই পক্ষই ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সেই সময় চুক্তিটি ছিল বড় কূটনৈতিক সাফল্য। কারণ, হামাস ও ফাতাহর বিরোধ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছিল, মানুষ মারা যাচ্ছিল এবং গাজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল।
কিন্তু চুক্তির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল, দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি কীভাবে কার্যকর হবে, তার স্থায়ী সমাধান তৈরি না হওয়া। সরকারে কে কোন পদ পাবেন, সেটি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী কার নির্দেশে চলবে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কার কর্তৃত্ব চূড়ান্ত হবে এবং রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিলে তা মেটানো হবে কীভাবে- এসব প্রশ্নে আস্থার সংকট কাটেনি।
ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা কাঠামোয় ফাতাহ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। অন্যদিকে হামাস নিজস্ব সশস্ত্র ও নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করেছিল। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তা থামানোর মতো একক কর্তৃত্ব কার্যকর ছিল না।
মক্কা চুক্তি দুই দলের নেতৃত্বকে সমঝোতায় এনেছিল, কিন্তু তাদের অধীনস্থ রাজনৈতিক ও সশস্ত্র কাঠামোগুলোকে একটি অভিন্ন ব্যবস্থায় আনতে পারেনি।
ঐক্যের সরকার গঠন, কিন্তু বিরোধের অবসান নয়
২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের অনুমোদনে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হয়। ইসমাইল হানিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকেন। হামাস ও ফাতাহর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিরাও সরকারে যোগ দেন।
সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে মক্কা চুক্তির সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষ্য পূরণ হয়েছিল। কিন্তু নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পরও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে।
সরকারের ভেতরে হামাস ও ফাতাহর প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ মেটেনি। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়ার মধ্যে ক্ষমতার সীমা নিয়েও মতপার্থক্য ছিল। দুই পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব ধরে রাখতে চাইছিল।
এখানে সমস্যা ছিল, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনকে সংঘাতের সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছিল, অথচ সংঘাতের মূল কারণগুলো তখনো বহাল ছিল। একই সরকারের মধ্যে অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছিল, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর অভিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ফলে সরকারটি বিরোধ মেটানোর কার্যকর মঞ্চ হয়ে উঠতে পারেনি। বরং দুই পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরকারের ভেতরেও চলতে থাকে।
আন্তর্জাতিক বয়কট ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
মক্কা চুক্তির পর আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর অবস্থানও পরিস্থিতি সহজ করেনি। ঐক্যের সরকার গঠিত হলেও হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অর্থসহায়তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসেনি।
আন্তর্জাতিক কোয়ার্টেটের শর্ত পূরণ না হওয়ায় হামাসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থায়নের বাইরে রাখা হয়। ঐক্যের সরকারের ক্ষেত্রেও হামাসের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি থেকে যায়।
এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন, প্রশাসনিক ব্যয় এবং জনসেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক চাপ নতুন সরকারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
২০০৭ সালের আগস্টে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রতিবেদনে মক্কা চুক্তির পর হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা এবং ঐক্যের সরকারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার নীতিতে পরিবর্তন না আনার সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নীতি সংকট আরও বাড়িয়েছে এবং সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ নষ্ট করেছে।
অর্থাৎ, মক্কায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেই সমঝোতাকে কার্যকর করার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। হামাসের নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু সেই চাপের পাশাপাশি ঐক্যের সরকারকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগও সীমিত ছিল।
এই নীতির ফল কী হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট: আন্তর্জাতিক বয়কট সংকটের সমাধান আনতে পারেনি। বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ঐক্যের সরকার আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
গাজায় সংঘর্ষ: জুনেই ভেঙে পড়ে ঐক্যের সরকার
২০০৭ সালের মে ও জুনে গাজায় হামাস ও ফাতাহ-সংশ্লিষ্ট বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের সশস্ত্র সদস্যরা বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনা ও কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।
জুনে হামাস দ্রুত গাজার গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা দখল করে এবং উপত্যকার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ফাতাহর নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব গাজায় তাদের অবস্থান হারায়।
এরপর মাহমুদ আব্বাস ঐক্যের সরকার ভেঙে দেন, সালাম ফাইয়াদের নেতৃত্বে জরুরি সরকার গঠন করেন। হামাস এই সরকারকে গাজায় কার্যকর হতে দেয়নি। ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পশ্চিম তীরভিত্তিক প্রশাসন এবং গাজায় হামাসের শাসন আলাদা হয়ে যায়।
মক্কা চুক্তির চার মাসের মধ্যে ফিলিস্তিনিরা আবার এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফিরে যায়, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল শুধু আলাদা রাজনৈতিক অবস্থানেই ছিল না, আলাদা ভূখণ্ডও নিয়ন্ত্রণ করছিল।
এটি ছিল চুক্তির সরাসরি বিপরীত পরিণতি। যে উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক বিভাজন কমানো, তার ব্যর্থতার পর সেই বিভাজন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
সৌদি আরবের কূটনৈতিক সাফল্য কেন স্থায়ী হলো না?
সৌদি আরব দুই পক্ষকে আলোচনায় বসিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছিল। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি।
মধ্যস্থতা একটি সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে, কিন্তু পক্ষগুলোকে সেই সমঝোতা মেনে চলতে বাধ্য করার মতো ব্যবস্থা না থাকলে ফলাফল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। মক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল।
চুক্তির পর দুই পক্ষকে একই সরকারে আনা গেলেও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ মেটেনি। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নেও ঐকমত্য তৈরি হয়নি। আর হামাস ও ফাতাহর মধ্যে এমন আস্থাও ছিল না, যা রাজনৈতিক সংকটের সময় তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখতে পারত।
সৌদি আরবের কূটনৈতিক উদ্যোগ তাই তাৎক্ষণিক সমঝোতা তৈরি করেছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
যে শিক্ষা রেখে গেল মক্কা চুক্তি
মক্কা চুক্তির ব্যর্থতার কেন্দ্রে ছিল তিনটি বিষয়: ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার চাপ।
হামাসের নির্বাচনী বিজয়ের পর ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক কাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছিল, ফাতাহর সঙ্গে ক্ষমতার সমঝোতা সেই পরিবর্তনকে স্থিতিশীল করতে পারেনি। দুই পক্ষ সরকারে অংশীদার হলেও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রশ্নে আস্থা তৈরি হয়নি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয়নি।
এসব সংকট পরস্পরকে আরও তীব্র করেছে। সরকার দুর্বল হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে এবং রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে সশস্ত্র সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে।
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মক্কায় যে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার পতন ঘটে জুনেই। এরপর গাজা ও পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক বিভাজন ফিলিস্তিনের শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সংকটে পরিণত হয়।
মক্কা চুক্তি তাই ফিলিস্তিনের ইতিহাসে শুধু একটি ব্যর্থ সমঝোতার নাম নয়। এটি এমন এক রাজনৈতিক মুহূর্ত, যখন ঐক্যের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, নিরাপত্তা কাঠামোর বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির চাপ সেই সুযোগকে বাস্তবে রূপ নিতে দেয়নি।
