প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফকল্যান্ডের তেল উত্তোলন বন্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ আর্জেন্টিনা

ফকল্যান্ডের তেল উত্তোলন বন্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ আর্জেন্টিনা

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধের মধ্যে ব্রিটিশ অনুমোদিত তেল প্রকল্প নিয়ে দেশটির এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করে আর্জেন্টিনা। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, ফকল্যান্ডের উত্তরে প্রস্তাবিত তেল উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করাই এই আবেদনের মূল লক্ষ্য।

আর্জেন্টিনার দাবি, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় একতরফাভাবে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাজ্য তাদের সার্বভৌম অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। সমুদ্রতলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং বিরোধ আরও জটিল হওয়া ঠেকাতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে বুয়েনস এইরেস।

প্রকল্প ঘিরে কেন এত বিরোধ

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সি লায়ন’ নামের একটি সমুদ্রভিত্তিক তেল প্রকল্প। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই তেলক্ষেত্রের উন্নয়নে প্রায় ২২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিতাস পেট্রোলিয়াম এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রকহপার এক্সপ্লোরেশন যৌথভাবে প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান দুটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে এই তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল ফকল্যান্ডের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এই উদ্যোগকে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া দ্বীপপুঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর শাস্তির প্রস্তাবও দিয়েছে তাঁর সরকার।

যুক্তরাজ্যের অবস্থান কী

আর্জেন্টিনার আবেদনের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে পরিচালিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম আইনসম্মত। দ্বীপের বাসিন্দাদের নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের অধিকার রয়েছে বলেও মনে করে লন্ডন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা উমা কুমারান দেশটির পার্লামেন্টে বলেছেন, আর্জেন্টিনার এই আবেদন ফকল্যান্ড কর্তৃপক্ষের দেওয়া অনুমতিপত্র বাতিল করে না এবং প্রকল্পের কাজ বন্ধের কোনো স্বয়ংক্রিয় নির্দেশও নয়। তবে ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য অংশ নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

চার দশকের পুরোনো বিরোধে নতুন মাত্রা

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনা অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং সেখানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণকে অবৈধ বলে মনে করে।

১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। যুদ্ধের পরও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।