প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

চীনা গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে পুরোনো মডেল ফিরিয়ে আনছে ইউরোপের কোম্পানিগুলো

চীনা গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে পুরোনো মডেল ফিরিয়ে আনছে ইউরোপের কোম্পানিগুলো
চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পুরোনো জনপ্রিয় মডেলের আধুনিক সংস্করণ ফিরিয়ে আনছে ইউরোপের গাড়ি নির্মাতারা এ আই দ্বারা নির্মিত ছবি

চীনের সাশ্রয়ী ও আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পুরোনো জনপ্রিয় গাড়ির নকশায় ফিরছে ইউরোপের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। রেনো, স্টেলান্টিস ও ফক্সওয়াগেনের মতো কোম্পানি নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মডেলকে নতুন প্রযুক্তিতে ফিরিয়ে এনে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে চীনা নির্মাতাদের অংশ প্রায় ১১ শতাংশে পৌঁছেছে। তুলনামূলক কম দাম ও উন্নত প্রযুক্তির কারণে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের কোম্পানিগুলো উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি নিজেদের পুরোনো ব্র্যান্ডের পরিচিতি কাজে লাগাচ্ছে।

ফরাসি গাড়ি নির্মাতা রেনো এরই মধ্যে এ কৌশলে সাফল্য পেয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম বাজারে আসা রেনো ফাইভের বৈদ্যুতিক সংস্করণ চলতি বছর ইউরোপে মাঝারি আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেল হয়েছে। কোম্পানিটির চলতি বছরের প্রথমার্ধের আয় বৃদ্ধিতেও মডেলটির অবদান রয়েছে।

একই পথে হাঁটছে স্টেলান্টিস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ঐতিহ্যবাহী সিট্রোয়েন টু-সিভির বৈদ্যুতিক সংস্করণ সামনে এনেছে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উৎপাদিত এই গাড়ির নতুন সংস্করণের মাধ্যমে পুরোনো ক্রেতাদের পাশাপাশি সাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজছেন এমন নতুন ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করতে চায় কোম্পানিটি।

অন্যদিকে, ফক্সওয়াগেনের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আইডি পোলোতেও পুরোনো নকশার ছাপ রাখা হয়েছে। গাড়িটিতে এমন একটি বিশেষ ড্যাশবোর্ড সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে আশির দশকের জনপ্রিয় গলফ গাড়ির গতিমাপকের পুরোনো ধরন ফিরিয়ে আনা যায়। এতে ভার্চ্যুয়াল ক্যাসেট টেপের মতো সংগীত চালানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

শুধু পুরোনো নকশায় মিলবে না সাফল্য

গাড়ি নির্মাতাদের এই কৌশল ক্রেতাদের আবেগ ও স্মৃতিকে কাজে লাগাতে সাহায্য করলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইউরোপে পরিচিত মডেলের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও অন্য বাজারে একই কৌশল সমান সাফল্য নাও পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে শুধু পুরোনো নকশা ফিরিয়ে আনলেই হবে না। গাড়ির দাম, দ্রুত চার্জ দেওয়ার সুবিধা, একবার চার্জে চলার দূরত্ব এবং চালকবিহীন প্রযুক্তির মতো বিষয়েও উন্নতি করতে হবে।

ফলে ইউরোপের গাড়ি নির্মাতাদের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ, একদিকে উৎপাদন খরচ ও প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো, অন্যদিকে নিজেদের ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতাদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করা।

সূত্র: রয়টার্স