আন্তর্জাতিক
জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রভাব, কমেছে কাতারের গ্যাস রপ্তানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির প্রধান গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহেও।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের সরবরাহব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে কাতার থেকে ১৬ লাখ টন এলএনজি রপ্তানি হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল দেশটির সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানি। তবে পরিমাণটি যুদ্ধের আগের গড় রপ্তানির এক-চতুর্থাংশেরও কম। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অক্টোবরে রপ্তানি আরও কমে প্রায় ৬ লাখ টনে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার।
গত মার্চে রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলায় কাতারের ১৪টি এলএনজি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি গ্যাস-টু-লিকুইডস উৎপাদনকেন্দ্র। কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি উৎপাদন ইউনিট মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলএনজি সরবরাহে এই সংকটের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। এশিয়া ও ইউরোপের যেসব দেশ আমদানির মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণ করে, তাদের বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রপ্তানি বাড়লেও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পুরো ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা থাকায় কাতারের গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রণালিটি আবার উন্মুক্ত হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক গ্যাস কার্যক্রমে ফেরা সম্ভব হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ইউনিটগুলোর মেরামতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে দেশটির রপ্তানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক গ্যাসের সরবরাহ ও দামে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
