প্রচ্ছদ / অর্থনীতি

অর্থনীতি

আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম, দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত

আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম, দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত

দেশের পরিবারগুলোর আয় ও ব্যয়ের হিসাব ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সংসারের নিয়মিত খরচ মেটাতে গিয়ে ঋণ নিতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবারকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। অন্যদিকে পরিবারপ্রতি মাসিক গড় ব্যয় আয়ের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা বেশি।

বিবিএসের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্যের বরাতে ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে এ চিত্র উঠে এসেছে।

মাস শেষে ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা

জরিপ অনুযায়ী, দেশের একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ মাসে গড়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে ১ হাজার ৭৯৮ টাকা।

এক মাসের হিসাবে এই ব্যবধান খুব বড় মনে না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবারের সঞ্চয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো সম্ভব না হলে ধারদেনা কিংবা আগের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।

২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছিল। সে সময় পরিবারপ্রতি মাসিক গড় আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ ওই জরিপে গড় আয় ব্যয়ের চেয়ে ৯২২ টাকা বেশি ছিল। নতুন জরিপে সেই ব্যবধান উল্টে গেছে।

গ্রামাঞ্চলের পরিবার বেশি চাপে

ঋণ নেওয়ার প্রবণতায় গ্রাম ও শহরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ঋণ নিয়েছে গ্রামীণ এলাকার ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার। শহরাঞ্চলে এই হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ। সিটি করপোরেশন এলাকায় হারটি ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ।

অর্থাৎ গ্রামীণ এলাকার অর্ধেকেরও বেশি পরিবার দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে ঋণ নিয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামে এই প্রবণতা বেশি হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর দেওয়ার মতো।

শহরে ব্যয় বেশি, গ্রামে ঋণের প্রবণতা বেশি

পরিবারপ্রতি মাসিক গড় ব্যয়ের হিসাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যয় সবচেয়ে বেশি, ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। অন্যান্য শহরাঞ্চলে এই পরিমাণ ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা। গ্রামীণ এলাকায় গড় ব্যয় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।

এতে দেখা যায়, শহরের পরিবারগুলো তুলনামূলক বেশি ব্যয় করলেও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা গ্রামাঞ্চলে বেশি।

কী উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল জরিপ

বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করে। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ প্রণয়নে সহায়তার উদ্দেশ্যে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপের জন্য গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৫০টি নমুনা এলাকা থেকে ৩ হাজার পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়।

জরিপের ফলাফল থেকে পরিবারগুলোর আয়-ব্যয়ের ব্যবধান এবং ঋণের ওপর নির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।