অর্থনীতি
বন্ডের সুদ বাড়লেও সোনার ওপর আস্থা হারাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

সরকারি বন্ডের সুদ বাড়ছে, অন্যদিকে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও কিছুটা কমেছে। তবু সোনার ওপর আস্থা হারাচ্ছে না বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে সোনার গুরুত্ব এখনো ধরে রেখেছে তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে এর চাহিদা বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে। ফলে চলতি বছর দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমলেও প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের ওপরে রয়েছে।
ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সার্জিও নিকোলেত্তি আলতিমারি ইতালির সরেন্তোতে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে বলেন, বিভিন্ন সংকটের সময় সোনার ভূমিকা এর নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গুরুত্ব প্রমাণ করেছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগের সময়ে এই ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বন্ডের সুদ বাড়লেও সোনার চাহিদা কেন
সাধারণত সরকারি বন্ডের সুদ বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে। কারণ, সোনা ধরে রাখলে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। অন্যদিকে বন্ড থেকে সুদ পাওয়া যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করেন।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বজুড়ে সরকারি ঋণ বাড়ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। এসব ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে অনেক বিনিয়োগকারী সোনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ইয়োয়াখিম নাগেল বলেন, বন্ডের সুদ বাড়ায় রিজার্ভ ব্যবস্থাপকদের কাছে বন্ডের আকর্ষণ বাড়ছে। তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ সরকারি ঋণের কারণে সোনায় বিনিয়োগের যৌক্তিকতাও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনায় পরিবর্তন
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাসের জুনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে ৭২০ টনে দাঁড়াতে পারে। তবে এই পরিমাণ ২০২২ সালের আগের সময়ের তুলনায় বেশি থাকবে।
চীনের সোনাবাজারেও বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেং হুইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো সোনার বার ও কয়েন কেনার পরিমাণ গয়নার চাহিদাকে ছাড়িয়ে যায়। এতে বোঝা যায়, সোনার বাজারে অলংকারের পাশাপাশি বিনিয়োগের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ডের সুদ, ডলারের অবস্থান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির কারণে স্বল্প মেয়াদে সোনার দামে ওঠানামা হতে পারে। তবে সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা সোনার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
