জাতীয়
সৌদিগামী ১৯ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে, রিয়াদে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলায় কার্যক্রমে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১২৬টি ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাতে সোমবার এ হিসাব প্রকাশ করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ব্যাহত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৫৯টি সরাসরি এবং ৬৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
রিয়াদে বিমানের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে। ১৭ অক্টোবর বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।
তবে ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী বিমানের ফ্লাইট চালু রয়েছে। যেসব যাত্রীর জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব যাওয়া প্রয়োজন, তাঁদের বিকল্প হিসেবে এই দুই বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিমান।
এ ছাড়া দাম্মাম রুটে ২১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। যাত্রার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করতে যাত্রীদের বিমানের বিক্রয়কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটে কোন এয়ারলাইনের কতটি ব্যাহত
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ১৯ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইন্ডিগোর ওপর। এয়ারলাইনটির ২৪টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালামএয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।
প্রবাসী কর্মীদের বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ফ্লাইট স্থগিত ও সূচি পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসী কর্মীরা। অনেকের সৌদি আরবে কাজে ফেরার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এসেছে। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, আবার কারও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ছুটি বাড়ানোর নিশ্চয়তা নেই।
বিকল্প রুটে যাত্রা করতে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হতে পারে। বিশেষ করে ট্রানজিটের কোনো একটি অংশ বাতিল হলে পুরো যাত্রাসূচিই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে শুধু সরাসরি রিয়াদগামী যাত্রী নয়, অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
