প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ভারতের আসল বস কে, আম্বানিকে প্রশ্ন মাস্কের

ভারতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। তার প্রশ্ন,

ইলন মাস্ক ও নরেন্দ্র মোদি

ভারতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশটির ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। তার প্রশ্ন, ‘ভারতের আসল বস কি আম্বানি?’

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রশ্ন তোলেন মাস্ক। এর আগের দিন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের তার প্রতিষ্ঠানের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। তাদের কারণে ভারতের মানুষের ওপর একচেটিয়া ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাস্কের দাবি, ভারতের সরকারের সব আইন ও শর্ত মেনে চলতে পাঁচ বছর ব্যয় করার পরও স্টারলিংককে দেশটিতে সেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

ভারতের টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবার বাজারে আম্বানির মালিকানাধীন জিও সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। দেশটির আরেক শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এয়ারটেলের সঙ্গে মিলে তারা বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

মাস্কের এই মন্তব্য ভারতের রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘অন্যজনের সঙ্গে দেখা হলে অপেক্ষা করুন।’ তার এই বক্তব্য ভারতের আরেক শীর্ষ ধনকুবের গৌতম আদানিকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদানির সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন রাহুল গান্ধী।

মাস্কের মন্তব্যের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক। এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিএনবিসি মুকেশ আম্বানির প্রধান প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো জবাব দেয়নি।

অনুমোদন পেয়েও চালু হয়নি স্টারলিংক

২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের পণ্য ও সেবা বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আম্বানির জিও প্ল্যাটফর্মস ও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এয়ারটেলের সঙ্গে চুক্তি করে স্পেসএক্স।

এরপর একই বছরের জুলাইয়ে ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর লাইসেন্স পায় স্টারলিংক। তবে লাইসেন্স পাওয়ার পরও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, স্টারলিংকের টার্মিনাল বা সংযোগ স্থাপনের যন্ত্র অনুমোদিত সেবা চালুর আগেই ব্যবহার করা হতে পারে, এমন নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমসংক্রান্ত অনুমোদন স্থগিত রেখেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

অন্যদিকে, জিও প্ল্যাটফর্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকাশ আম্বানি গত জুনে শেয়ারধারীদের জানিয়েছিলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ভারতে নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা চালুর পরিকল্পনা করছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে যোগাযোগসেবা সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট এবং ২৩টি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করছে জিও।

অন্যদিকে, স্টারলিংকের কক্ষপথে প্রায় ১১ হাজার স্যাটেলাইট রয়েছে। এসব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোলকে আকাশ আম্বানি বলেন, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। তার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হবে সাশ্রয়ী প্রযুক্তিসেবা নিশ্চিত করা।

ভারতে সুবিধা করতে পারছে না মাস্কের ব্যবসা

ভারতে মাস্কের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা শুধু স্যাটেলাইট ইন্টারনেটেই বাধার মুখে পড়েনি। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলাও দেশটির বাজারে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পায়নি।

গত বছর ভারতে কার্যক্রম শুরু করে টেসলা। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারে প্রবেশের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে মাত্র এক হাজারের কিছু বেশি গাড়ি বিক্রি করতে পেরেছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার ভারতে স্টারলিংক ও টেসলার ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।