আন্তর্জাতিক
জাগুয়ারের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি, নকশায় ফিরল ষাটের দশকের ছোঁয়া
নিউইয়র্কে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘টাইপ ০১’ উন্মোচন করেছে ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর)। ৪ দরজার এই গ্র্যান্ড ট্যুরার গাড়িটির নকশায় রয়েছে লম্বা বনেট।

নিউইয়র্কে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘টাইপ ০১’ উন্মোচন করেছে ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর)। ৪ দরজার এই গ্র্যান্ড ট্যুরার গাড়িটির নকশায় রয়েছে লম্বা বনেট। পেছনে নেই প্রচলিত কাচের জানালা। আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুবিধা নিয়ে তৈরি গাড়িটির শুরুর দাম ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
ভারতের টাটা মোটরসের মালিকানাধীন জেএলআর বলছে, টাইপ ০১ জাগুয়ারের গাড়ির নতুন প্রজন্মের সূচনা করছে। একই সঙ্গে এটি ব্র্যান্ডটির জন্য একটি নতুন যুগের শুরু।
নতুন গাড়িটির নকশায় ষাটের দশকের বিখ্যাত জাগুয়ার ই-টাইপ স্পোর্টস কারের প্রভাব রয়েছে। ওই সময়ের ই-টাইপ মডেলগুলো এখনো গাড়ি সংগ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ২০২৪ সালে জাগুয়ার যে ‘টাইপ ০০’ কনসেপ্ট গাড়ি উন্মোচন করেছিল, টাইপ ০১ সেই নতুন নকশাধারারই পরবর্তী মডেল।
টাইপ ০০ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে জাগুয়ার তাদের ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সেই নকশা ও ব্র্যান্ড পুনর্গঠনের পরিকল্পনা গাড়িপ্রেমীদের একাংশের পাশাপাশি কয়েকজন রাজনীতিকের সমালোচনার মুখে পড়ে।
জাগুয়ারের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়িটি এমন এক সময়ে বাজারে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইউরোপের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক কম। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে সেখানে নিজেদের গ্রাহকভিত্তি বাড়াতে চাইছে জেএলআর।
ইউরোপের গাড়ি শিল্পও বর্তমানে নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। কম দামের চীনা গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা, বাড়তি শুল্ক এবং সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যেই জেএলআর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন করে মনোযোগ দিচ্ছে।
তবে জাগুয়ারের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত বছর একটি সাইবার হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। এতে সরবরাহকারীদের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে। ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মাসে জেএলআর জানিয়েছে, আগামী দুই বছরে স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মীসংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ কমানো হবে।
এর পাশাপাশি জাগুয়ার তাদের পুরো গাড়ির লাইনআপ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। যদিও বিলাসবহুল গাড়ির ক্রেতারা বৈদ্যুতিক গাড়িতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে গাড়ি শিল্পের কিছু নির্বাহী এখনো সংশয় প্রকাশ করছেন।
বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতাদের অবস্থানও এক নয়। ফেরারি চলতি বছর তাদের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে গাড়িটির নকশা প্রচলিত ফেরারি মডেলগুলোর তুলনায় আলাদা হওয়ায় তা সমালোচনার মুখে পড়ে। বেন্টলি গত মাসে তাদের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করেছে। অন্যদিকে ল্যাম্বরগিনি এই দশক শেষ হওয়ার আগে বৈদ্যুতিক গাড়ি আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে। ম্যাকলারেনও বলেছে, তাদের ক্রেতাদের মধ্যে পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে যাওয়ার আগ্রহ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

