আন্তর্জাতিক
প্যারিস মোটর শোতে চীনের ২০ গাড়ি ব্র্যান্ড, চাপে ইউরোপীয় নির্মাতারা

ইউরোপের গাড়ির বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে যাচ্ছে চীনের গাড়ি নির্মাতারা। আগামী ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হতে যাওয়া প্যারিস মোটর শোতে অংশ নেবে চীনের রেকর্ড ২০টি গাড়ি ব্র্যান্ড। ২০২৪ সালের প্রদর্শনীতে চীনের ১০টি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও হাইব্রিড গাড়ির বিস্তৃত সম্ভার নিয়ে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে নিজেদের বাজার ধরে রাখতে নতুন মডেল উন্মোচন এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী গাড়ি তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ইউরোপের নির্মাতারা।
এবারের প্রদর্শনীতে চীনের পরিচিত ব্র্যান্ড বিওয়াইডি ও চেরির পাশাপাশি নতুন করে নজর কাড়তে চায় আইতো ও অ্যাভাটর। এ ছাড়া গিলি, এক্সপেং, লিপমোটর, জিকর, ডেনজা ও লি অটোর মতো ব্র্যান্ডও থাকছে। মোটর শোতে নতুন মডেল দেখানোর পাশাপাশি ইউরোপের ক্রেতাদের কাছে নিজেদের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা তুলে ধরবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
ইউরোপের বাজারে বাড়ছে চীনা গাড়ির অংশীদারত্ব
গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্মিট অটোমোটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর অংশীদারত্ব বেড়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
শুধু পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজারেও এগোচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। পশ্চিম ইউরোপের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজারে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর অংশীদারত্ব ২৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। দুই বছর আগে একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনে তৈরি পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলেও চীনা নির্মাতারা হাইব্রিড ও প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির বাজারেও সম্প্রসারণ করছে। ফলে চীনা গাড়ির প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় ইউরোপের নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
খরচ কমাতে চাকরি ছাঁটাই, কারখানা বন্ধের পরিকল্পনা
চীনা ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ইউরোপে গাড়ির চাহিদা দুর্বল থাকা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে বাড়তি বিনিয়োগের চাপও স্থানীয় নির্মাতাদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে।
জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেন ব্যয় কমাতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই এবং কিছু কারখানা বন্ধের বিষয় বিবেচনা করছে। বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা বিএমডব্লিউও কর্মীসংখ্যা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে নারাজ ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবারের প্যারিস মোটর শোতে সিট্রোয়েনের ঐতিহ্যবাহী ২সিভি মডেলকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
চীনা নির্মাতাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ প্যারিস মোটর শো
চীনা গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে রয়েছে। অন্যদিকে নিজ দেশের বাজারে চাহিদা দুর্বল হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ তাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউরোপের বড় গাড়ির বাজারে অবস্থান শক্ত করার সুযোগ হিসেবে প্যারিস মোটর শোকে দেখছে এসব প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা গাড়ির প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় বাণিজ্যিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন ও যন্ত্রাংশের ব্যবহারকে উৎসাহিত করার উদ্যোগও রয়েছে। ফলে গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি চীন ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দুই বছর পরপর আয়োজিত প্যারিস মোটর শো চলবে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রদর্শনীতে প্রায় ১০০টি নতুন মডেল দেখানো হবে। চীনের রেকর্ডসংখ্যক ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণ এবং ইউরোপীয় নির্মাতাদের নতুন গাড়ি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এবারের আয়োজন বিশ্ব অটোমোবাইল শিল্পের প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরবে।
