আন্তর্জাতিক
কোকেন সেবনের পর লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন আবুধাবির রাজবধূ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্যস্ত সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন আবুধাবির শাসক পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে যুক্ত মাহরাহ আল নাহিয়ান। তাঁর পাশেই জুতা ছাড়াই খেলছিল তিন বছরের একটি শিশু। শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মাহরাহর এমন অবস্থার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এ ঘটনায় শিশু পরিচর্যায় অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করার পর তাঁকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি জরিমানা ও মামলার খরচ বাবদ ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্যান্ডার্ড ও দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ জুন পশ্চিম লন্ডনে এ ঘটনা ঘটে। ৩২ বছর বয়সী মাহরাহকে একটি ভবনের বাইরের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর পাশেই আরেকজন পুরুষ অচেতন ছিলেন। অন্যদিকে, তিন বছরের শিশুটি একটি স্কুটার নিয়ে জুতা ছাড়াই সড়কের কাছাকাছি খেলছিল।
ঘটনাটি নজরে আসার পর পথচারীরা শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁরা শিশুটিকে দেখাশোনা করেন এবং জরুরি সেবায় খবর দেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মাহরাহ প্রায় ৩০ মিনিট অচেতন ছিলেন।
আদালতে জানানো হয়, ঘটনার আগের কয়েক দিনে মাহরাহ কোকেন সেবন করেছিলেন। তাঁকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও সে সময় তাঁর কাছে কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর আইনজীবী স্টিফেন ভুলো আদালতকে জানান, ঘটনার দিন মাহরাহ কোকেন সেবন করেননি। আগের কয়েক দিনে মাদক গ্রহণের পর তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন আইনজীবী।
জ্ঞান ফেরার পর মাহরাহ সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্বেগ নিয়েও প্রশ্ন করেছিলেন বলে আদালতে উপস্থাপিত বিবরণে উঠে আসে।
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিও পাহলাভানপুর জানান, শিশুটি জুতা ছাড়া রাস্তায় একটি স্কুটার নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। চলন্ত যানবাহনের কাছাকাছি থাকায় পথচারীরা তাকে নিরাপদে রাখার উদ্যোগ নেন।
আদালতে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে শিশুটি কাগজের একটি টুকরার পেছনে ছুটতে গিয়ে সড়কের দিকে চলে যায়। তখন একজন পথচারী এগিয়ে এসে তাকে থামান।
বিচারক জেরেমি জনসন বলেন, অপরিচিত মানুষের হস্তক্ষেপ না থাকলে শিশুটি গুরুতর আহত হতে পারত। এমনকি সে হারিয়ে যেতে পারত কিংবা অপরিচিত কারও হাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও ছিল।
বিচারকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, শিশুটিকে জুতা ছাড়া রাস্তায় খেলতে দেওয়া এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে মাহরাহ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে শিশু পরিচর্যায় অবহেলার একটি অভিযোগ স্বীকার করেন মাহরাহ। এরপর তাঁকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার দেওয়া হয়। এর সঙ্গে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির জন্য পুনর্বাসনসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে জরিমানা ও মামলার খরচ বাবদ মোট ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে।
আদালতে তাঁর আইনজীবী জানান, ঘটনার পর মাহরাহ সারেতে অবস্থিত প্রিয়রি চিকিৎসাকেন্দ্রে মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান এবং মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠার জন্য সহায়তামূলক সভায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাহরাহ নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাহরাহ আল নাহিয়ান বৈবাহিক সূত্রে আবুধাবির শাসক আল নাহিয়ান পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের মধ্যে আবুধাবি সবচেয়ে বড় এবং দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও এই পরিবারের সদস্য।
আদালতে মাহরাহর মাসিক আট হাজার পাউন্ড ভাতা পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সূত্র: দ্য স্ট্যান্ডার্ড, দ্য টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে।
