প্রচ্ছদ / তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি

দাম বেড়ে কমছে চাহিদা, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের যন্ত্রাংশের অর্ডার কমাল অ্যাপল

Iphone 18 Pro

নতুন আইফোনের দাম বৃদ্ধি ও মেমোরি চিপের বাড়তি খরচের প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে। প্রত্যাশার তুলনায় চাহিদা কম থাকায় আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের যন্ত্রাংশের অর্ডার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল। জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে আইফোনের এই দুটি মডেলের যন্ত্রাংশের অর্ডার আগের উৎপাদন পরিকল্পনার তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিয়েছে অ্যাপল। সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে অর্ডার আরও কমানো হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দাম বাড়ায় ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা

আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম আগের প্রজন্মের মডেলগুলোর তুলনায় ১০০ ডলার করে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আইফোন ১৮ প্রো-এর প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার।

মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্মার্টফোন তৈরির খরচও বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিশ্বজুড়ে উন্নত মেমোরি চিপের চাহিদা বেড়েছে। এতে চিপের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়ছে।

এই বাড়তি খরচের প্রভাব প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে পড়ছে। অ্যাপলও এর আগে গত জুনে আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়িয়েছিল।

আইফোনের বাজারজাতের সময়সূচিতেও পরিবর্তন

আইফোনের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ার পেছনে দাম ছাড়াও নতুন মডেল বাজারে আনার সময়সূচির পরিবর্তনকে একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাধারণত নতুন প্রজন্মের আইফোনের একাধিক মডেল কাছাকাছি সময়ে বাজারে আনে অ্যাপল। তবে এবার শরৎকালে আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুও সামনে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ আইফোন ১৮ ও নতুন নকশার আইফোন এয়ার ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন আইফোনের মোট বিক্রির পরিমাণ আগের বছরগুলোর তুলনায় কম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেলিভারির অপেক্ষা কমছে

আইফোনের চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ডেলিভারির সময় থেকে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ৩০টির বেশি আঞ্চলিক বাজারে আইফোন ১৮ প্রো হাতে পেতে ক্রেতাদের অপেক্ষার সময় কমেছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও অপেক্ষার সময় কমে আসাকে চাহিদা দুর্বল হওয়ার সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে নতুন মডেলের দাম বাড়ার পর এই প্রবণতা অ্যাপলের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তবে যন্ত্রাংশের অর্ডার কমলেও অ্যাপলের মোট আয় তাৎক্ষণিকভাবে একই হারে কমবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। নতুন মডেলগুলোর দাম বেশি হওয়ায় বিক্রির পরিমাণ কমলেও আয়ের ওপর তার প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

এদিকে, মেমোরি চিপের বাড়তি দাম ও সরবরাহসংকট শুধু অ্যাপল নয়, পুরো স্মার্টফোন শিল্পের জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকলে আগামী দিনে প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।