খেলাধুলা
ট্রফি ছাড়াই রেকর্ড আয় রিয়াল মাদ্রিদের

মাঠে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারলেও আয়ের দিক থেকে নতুন ইতিহাস গড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে স্প্যানিশ ক্লাবটির পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১২২ কোটি ১০ লাখ ইউরোর বেশি। বিশ্বের কোনো ক্রীড়া সংস্থা এর আগে এক অর্থবছরে ১২০ কোটি ইউরো আয়ের মাইলফলক ছুঁতে পারেনি বলে জানিয়েছে ক্লাবটি।
গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তাদের পরিচালন আয় হয়েছে ১ হাজার ২২১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ইউরো। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। খেলোয়াড় বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ক্লাবটির আর্থিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে নবায়ন করা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম। স্টেডিয়াম থেকে আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। বিপণন খাতের আয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। নতুন স্পনসর যুক্ত হওয়া এবং পুরোনো স্পনসরশিপ চুক্তি নবায়নের ফলে এই আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাবটি।
বার্নাব্যু এখন আয়ের বড় উৎস
রিয়াল মাদ্রিদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। সংস্কারের পর স্টেডিয়ামটি থেকে আয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে স্টেডিয়াম থেকে আয় ছিল ১৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ইউরোতে। অর্থাৎ এই সময়ে স্টেডিয়াম থেকে আয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।
ম্যাচের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি আতিথেয়তা সেবা, জাদুঘর এবং পর্যটন কার্যক্রম থেকেও আয় করছে ক্লাবটি। ফলে শুধু মাঠের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে স্টেডিয়ামকে ব্যবসার বড় একটি অংশে পরিণত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
আয় বাড়লেও কত মুনাফা হলো?
রেকর্ড আয় করলেও পুরো অর্থ লাভ হিসেবে জমা হয়নি। খেলোয়াড়দের বেতন, দল গঠন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর ক্লাবটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ ইউরো।
আগের অর্থবছরে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪৩ লাখ ইউরো। অর্থাৎ মুনাফাও বেড়েছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে টানা ২৬টি অর্থবছর তারা মুনাফা নিয়ে শেষ করেছে।
এখানে আয়ের সঙ্গে মুনাফার পার্থক্য বোঝা জরুরি। আয় হলো ব্যবসা থেকে পাওয়া মোট অর্থ। আর ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে, সেটিই মুনাফা। তাই ১২২ কোটি ইউরো আয় করলেও পুরো অর্থ রিয়াল মাদ্রিদের হাতে থাকছে না।
মাঠের বাইরের ব্যবসায় জোর
রিয়াল মাদ্রিদের এই আর্থিক সাফল্য দেখাচ্ছে, আধুনিক ফুটবলে শুধু শিরোপা জেতাই আয়ের একমাত্র পথ নয়। শক্তিশালী ব্র্যান্ড, স্পনসরশিপ, স্টেডিয়াম এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বড় ভূমিকা রাখে।
ক্লাবটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও খেলোয়াড়দের পেছনে মোট ১৯ কোটি ২০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করেছে তারা। খেলোয়াড় কেনার পেছনে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ১০ লাখ ইউরো।
রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছে, ক্লাবের মুনাফা সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় না। বরং ক্লাবের অবকাঠামো ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়।
মাঠে প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও তাই আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রেকর্ড আয়, স্টেডিয়াম থেকে বাড়তি উপার্জন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিস্তার ক্লাবটিকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
