প্রচ্ছদ / খেলাধুলা

খেলাধুলা

ইউটিউবে বিনা মূল্যে ফুটবল দেখাবে ভারত, বদলাচ্ছে সম্প্রচার ব্যবসা

ইউটিউবে বিনা মূল্যে ফুটবল দেখাবে ভারত, বদলাচ্ছে সম্প্রচার ব্যবসা

ফুটবল দেখার জন্য আর সাবস্ক্রিপশন কিনতে হবে না দর্শকদের। ভারতের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ২০২৬–২৭ মৌসুমের সব ম্যাচ সরাসরি ও বিনা মূল্যে দেখাবে ইউটিউব। টেলিভিশনে ম্যাচ সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি সনিলিভেও দেখা যাবে পুরো মৌসুমের খেলা।

ভারতীয় সুপার লিগের নতুন এই সম্প্রচারব্যবস্থা ফুটবল দেখার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রীড়া সম্প্রচার ব্যবসার প্রচলিত হিসাবেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সাবস্ক্রিপশননির্ভর সম্প্রচারের বদলে বিনা মূল্যে বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয় বাড়ানো কতটা সম্ভব, এখন সেটিই বড় আলোচনার বিষয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও এনডিটিভি প্রফিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ মৌসুমে মোট ১৬৩টি ম্যাচ ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া এই মৌসুম চলবে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত।

এক লিগ, তিন মাধ্যমে খেলা দেখার সুযোগ

নতুন ব্যবস্থায় দর্শকদের জন্য তিনটি মাধ্যম থাকছে। ইউটিউবে বিনা মূল্যে সরাসরি ম্যাচ দেখা যাবে। সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক টেলিভিশনে ম্যাচ সম্প্রচার করবে, আর সনিলিভে থাকবে অনলাইনে খেলা দেখার সুযোগ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম খেল নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউটিউবে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় ধারাভাষ্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ও সনিলিভে ইংরেজি, হিন্দি, মালয়ালম, তামিল ও বাংলায় খেলা দেখার সুযোগ থাকবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দলগুলোর ম্যাচে আঞ্চলিক ভাষার ধারাভাষ্য পাওয়া যাবে।

এ ব্যবস্থায় স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সংযুক্ত টেলিভিশনের মাধ্যমে দর্শকেরা সহজেই ম্যাচ দেখতে পারবেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ক্রীড়া সম্প্রচারের সাবস্ক্রিপশন কেনেন না, তাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

কেন বিনা মূল্যে সম্প্রচারের পথে আইএসএল?

বিনা মূল্যে সম্প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য দর্শকের প্রবেশের বাধা কমানো। সাবস্ক্রিপশন ফি না থাকলে নতুন দর্শক সহজেই ম্যাচ দেখতে আগ্রহী হতে পারেন। এর ফলে লিগের পরিচিতি, ক্লাবগুলোর সমর্থকসংখ্যা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দর্শকের সম্পৃক্ততা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে বেশি দর্শক মানেই বেশি আয় নয়। ইউটিউবে কতজন দর্শক ম্যাচ দেখছেন, তারা কতক্ষণ থাকছেন, বিজ্ঞাপন কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং স্পনসররা কতটা ব্যবসায়িক সুবিধা পাচ্ছেন, এসবের ওপর নির্ভর করবে এই ব্যবস্থার আর্থিক সাফল্য।

ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণেও আইএসএলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে দর্শক বাড়ানোর পাশাপাশি সেই আগ্রহকে বাণিজ্যিক আয়ে রূপান্তর করার বিষয়টি।

সম্প্রচারস্বত্বের সংকট থেকে নতুন পথে

আইএসএলের নতুন সম্প্রচারব্যবস্থা এমন এক সময়ে চালু হয়েছে, যখন লিগটি সম্প্রচারস্বত্ব ও বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে। আগের মৌসুমে সম্প্রচারস্বত্বের ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতার কারণে প্রতিযোগিতাটি বাধার মুখে পড়ে। এরপর ক্লাবগুলোর নেতৃত্বে নতুন বাণিজ্যিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নতুন ব্যবস্থায় সম্প্রচার ও ডিজিটাল মাধ্যমে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্লাবগুলোর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইউটিউবের বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠী এবং সনির টেলিভিশন সম্প্রচারের অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে চায় লিগ কর্তৃপক্ষ।

তবে বিনা মূল্যে সব ম্যাচ দেখানোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘ মেয়াদে কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, দর্শকের সম্পৃক্ততা এবং ক্লাবগুলোর আয় বাড়ানোর সক্ষমতার ওপর।

অন্য ক্রীড়া লিগগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

ডিজিটাল মাধ্যমে বিনা মূল্যে খেলা দেখানোর মডেল ক্রীড়া সম্প্রচারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এতে দর্শকের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়, আবার সম্প্রচারক ও আয়োজকদের জন্য বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপের নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থাকে, দর্শক বাড়লেও সেই দর্শক থেকে পর্যাপ্ত আয় না হলে ব্যয়বহুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আর্থিক স্থায়িত্ব কীভাবে নিশ্চিত হবে?

আইএসএলের নতুন সম্প্রচারব্যবস্থা তাই শুধু ভারতীয় ফুটবলের জন্য নয়, ডিজিটাল যুগে ক্রীড়া সম্প্রচার ব্যবসার ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিনা মূল্যে সম্প্রচারের মাধ্যমে দর্শক বাড়ানোর কৌশল শেষ পর্যন্ত ক্লাব ও লিগের আয় বাড়াতে পারে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী মৌসুমের বাণিজ্যিক ফলাফলে।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এনডিটিভি প্রফিট ও খেল নাও