বিনোদন
জনপ্রিয় কোরিয়ান নাটক ‘ডক্টর এক্স’ ঘিরে বিতর্ক, আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার দাবি

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় চিকিৎসাবিষয়ক নাটক ‘ডক্টর এক্স: দ্য এজ অব দ্য হোয়াইট মাফিয়া’ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাটকটিতে চিকিৎসার বাস্তবতা বিকৃতভাবে উপস্থাপন এবং চিকিৎসকদের নেতিবাচক চরিত্রে দেখানোর অভিযোগ তুলে সম্প্রচার পর্যালোচনার আবেদন করেছেন এক চিকিৎসক। আবেদনটির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস চোসান ও মানি টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেকে একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নাটকটির বিরুদ্ধে সম্প্রচার পর্যালোচনার আবেদন করেছেন। গত ১৩ অক্টোবর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আবেদনের প্রকাশিত স্ক্রিনশটে সেটির অবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দেখা যায়।
ওই চিকিৎসকের অভিযোগ, নাটকটিতে চিকিৎসকদের রোগী দেখার নিয়মিত কার্যক্রমকে অপ্রয়োজনীয় কাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের অদক্ষ ও নেতিবাচক চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও বাস্তব জটিলতার বিষয়টিও নাটকটিতে যথাযথভাবে উঠে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে, নাটকে কাহিনির প্রয়োজনে কিছুটা অতিরঞ্জন থাকতেই পারে। কিন্তু এ ধরনের উপস্থাপন দর্শকদের মধ্যে বাস্তব চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসার দৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন
নাটকটির প্রথম দুই পর্ব সম্প্রচারের পর কয়েকটি চিকিৎসাসংক্রান্ত দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে কুঁচকির হার্নিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে জরুরি অস্ত্রোপচারে নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং রোগীর রক্তচাপ মাপা না গেলেও সংকটময় পরিস্থিতিতে অ্যানেসথেশিয়া-সংক্রান্ত চিকিৎসার উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন দর্শক।
এদিকে নাটকটির চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন জরুরি চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ও লেখক নামগুং ইন। সমালোচনার জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কোনো দৃশ্যে চিকিৎসাবিষয়ক ভুল থাকলে সেটিকে পরামর্শক ও নির্মাতাদের মধ্যকার মতবিরোধে নির্মাতাদের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাওয়ার ফল হিসেবে দেখা যেতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম আইএমবিসি জানিয়েছে, বিতর্ক নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এসবিএসের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো মন্তব্য করা হয়নি। নাটকটির শুরুতেই অবশ্য জানানো হয়েছে, এটি কাল্পনিক কাহিনিনির্ভর এবং নাটকীয়তার প্রয়োজনে বাস্তব চিকিৎসাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম থেকে ভিন্নভাবে কিছু দৃশ্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
বিতর্কের মধ্যেও বাড়ছে দর্শকসংখ্যা
কিম জি-ওন অভিনীত নাটকটি গত ৯ অক্টোবর প্রচার শুরু করে। নিলসেন কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় পর্যায়ে পারিবারিক দর্শকসংখ্যার হিসাবে এর রেটিং ছিল ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্বে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশে।
নাটকটিতে মেধাবী শল্যচিকিৎসক গ্যে সু-জংয়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। হাসপাতালের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানই কাহিনির অন্যতম প্রধান বিষয়।
চিকিৎসাব্যবস্থার অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পেশাগত বাস্তবতা কতটা যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েই এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
