প্রচ্ছদ / সারাদেশ

সারাদেশ

শীতের আগমনী বার্তায় ব্যস্ত লেপ-তোষক কারিগর

শীতের আগমনী বার্তায় ব্যস্ত লেপ-তোষক কারিগর

রাজবাড়ী: শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি। ভোরে দেখা মিলছে হালকা কুয়াশার। দিনভর গরম থাকলেও মধ্যরাত থেকে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীতে বাড়তে শুরু করেছে লেপ-তোষক তৈরির ব্যস্ততা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগররা। দোকানগুলোতেও বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা।

রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীত সামনে রেখে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কেউ তুলা ধুনছেন, কেউ কাপড়ের ভেতরে তুলা ভরে তৈরি করছেন লেপ। আবার কেউ বানাচ্ছেন তোষক ও জাজিম। শীতের মৌসুমে বাড়তি আয়ের আশায় কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।

তবে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার বিভিন্ন ধরনের তুলার দাম বেড়েছে। বেড়েছে শ্রমিকদের মজুরিও। অন্যদিকে দেশি-বিদেশি কম্বল, ম্যাট্রেস ও শীতের পোশাক সহজলভ্য হওয়ায় আগের তুলনায় লেপ-তোষকের চাহিদা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লেপ-তোষক কারিগর সাহিদুল মোল্লা বলেন, ‘শীতের কাজ শুরু হয়েছে। সামনে কাজ আরও বাড়বে বলে আশা করছি। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। তবে শীতের মৌসুমে ভালো কাজ হয়। এখন প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারি।’

আরেক কারিগর লিখন শেখ বলেন, চার থেকে পাঁচ হাত মাপের একটি লেপ তৈরির মজুরি ২২০ টাকা। তোষক তৈরিতে নেওয়া হয় ২০০ টাকা। আর জাজিম তৈরির মজুরি ৬০০ টাকা।

লেপ-তোষক ব্যবসায়ী মান্নান সরদার বলেন, ‘শীতের সময় ব্যবসা ভালো হয়। কিন্তু বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। গত বছরের তুলনায় এবার বিভিন্ন ধরনের তুলার দাম বেশি।’

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি শিমুল তুলা ৪৫০ টাকা, মিল তুলা ৪০০ টাকা এবং গুটি কাবাশ তুলা ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাবাশ তুলার দাম ১৫০ টাকা, ব্লেজার তুলা ৪০ টাকা, ভিউল তুলা ২৫ টাকা ও এশ কালার তুলা ৫০ টাকা।

অন্য ব্যবসায়ী বাবলু সরদার বলেন, ‘এখন বাজারে দেশি-বিদেশি কম্বল, ম্যাট্রেস ও বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যায়। এ কারণে আগের মতো লেপ-তোষকের চাহিদা নেই। বছরের বেশির ভাগ সময় বসে থাকতে হয়। তবে শীতের মৌসুমে চাহিদা কিছুটা বাড়ে।’

শীতের আগমনে লেপ-তোষক তৈরির কাজ বাড়তে শুরু করলেও সারা বছর পর্যাপ্ত কাজ না থাকা এবং তুলার বাড়তি দামের চাপে রয়েছেন এ পেশার কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। শীতের মৌসুম তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও বছরের বাকি সময় অনেকটা কাজের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাঁদের।