প্রচ্ছদ / সারাদেশ

সারাদেশ

নাব্যতা সংকটে ব্যাহত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল, বাড়ছে ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা

নাব্যতা সংকটে ব্যাহত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল, বাড়ছে ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা

রাজবাড়ী: নাব্যতা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল। নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তের ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে ৫ নম্বর ঘাটে বড় আকারের রোরো ফেরি ভেড়ানো হচ্ছে না। এতে এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নৌরুট সচল রাখতে দৌলতদিয়া প্রান্তে ড্রেজিং কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বর্তমানে দুটি ড্রেজারের সাহায্যে নদী খনন করা হচ্ছে। তবে তীব্র স্রোত ও নিয়মিত পলি জমার কারণে খননকাজের লক্ষ্যমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট অনুযায়ী, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১১ হাজার ঘনমিটার। পরবর্তী সময়ে দৌলতদিয়ার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় পলি জমার কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে ৮ লাখ ঘনমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট নিরসনে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ড্রেজিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ৭ নম্বর ফেরিঘাট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তীব্র স্রোত ও প্রতিদিন নতুন করে পলি জমার কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে নতুন করে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করে পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট সচল রয়েছে। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ৭ নম্বর ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ঘাটটি সচল করতে গত ৬ অক্টোবর থেকে ড্রেজিং শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ড্রেজিং শেষ করে বন্ধ ঘাটগুলো চালু করা গেলে যানবাহন পারাপারের চাপ কমার পাশাপাশি যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগও কমবে।