কলাম
সৌদি আরবের বিমানবন্দর কবে খুলবে, ফ্লাইট ও ভিসা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী ও যাত্রীরা। কর্মস্থলে যোগদান, দেশে ফেরা, নতুন করে সৌদি আরবে যাত্রা এবং ভিসার মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে তাঁদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর কবে পুরোপুরি চালু হবে, বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীরা কী করবেন এবং বিকল্প পথে যাত্রার সুযোগ কতটা এসব বিষয়ে জানতে চাইছেন অনেকে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ১৭ অক্টোবর রাত ৯টা জিএমটি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সেটি ১৮ অক্টোবর রাত ৩টা। তবে এই সময়সীমা শেষ হলেই বিমানবন্দর খুলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে।
দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ কারণে রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের শুধু টিকিটের নির্ধারিত তারিখের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রা করা উচিত।
১৮ অক্টোবর থেকে কি ফ্লাইট চালু হবে?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটের ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার খবরও এসেছে। ফলে সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট একই দিনে চালু হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ফ্লাইট স্থগিত থাকার সময়সীমা শেষ হওয়া এবং নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেও এয়ারলাইনসগুলোকে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে। তাই যাত্রীরা টিকিটে উল্লেখ করা সময়কে চূড়ান্ত ধরে বিমানবন্দরে না গিয়ে আগে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করবেন।
বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করা যাবে?
রিয়াদ বা দাম্মামগামী যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে জেদ্দা কিংবা মদিনা বিমানবন্দর হয়ে যাত্রার বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। তবে সেখানে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক আছে কি না, টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পরবর্তী যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে।
বিকল্প বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রার ক্ষেত্রে ভিসার ধরন, প্রবেশের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবহনব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো টিকিট বাতিল বা পরিবর্তনের আগে এয়ারলাইনসের সঙ্গে কথা বলা উচিত। নিশ্চিত না হয়ে নতুন টিকিট কিনলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন?
ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বের কারণে যেসব কর্মীর সৌদি আরবে প্রবেশের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের দ্রুত নিয়োগকর্তা, স্পনসর ও রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়ে নতুন যোগদানের তারিখ বা প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
যারা ইতিমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, তাঁদের ইকামা ও অন্যান্য আবাসনসংক্রান্ত নথির মেয়াদ খেয়াল রাখতে হবে। ফ্লাইটের বিঘ্নের কারণে কোনো মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা অনুমান না করে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সতর্কতা
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা, জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হামলা বা ক্ষয়ক্ষতিসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী সংবেদনশীল ছবি, ভিডিও বা তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা ও আইনগত দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জরুরি প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
ফ্লাইট, পাসপোর্ট, শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা বা জরুরি কনস্যুলার সহায়তার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন প্রবাসীরা। যোগাযোগের নম্বর ও সেবার সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট বা যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সর্বশেষ তথ্য নেওয়া ভালো।
ফ্লাইট বাতিল হলে টিকিট, বুকিং নম্বর, পাসপোর্টের তথ্য এবং এয়ারলাইনস থেকে পাওয়া বার্তা সংরক্ষণ করা উচিত। ক্ষতিপূরণ, টিকিট পরিবর্তন বা অর্থ ফেরতের আবেদন করতে এসব নথি প্রয়োজন হতে পারে।
বিমানবন্দর পুরোপুরি চালু হবে কবে?
রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি কবে শুরু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন ঘোষণা প্রয়োজন। নির্ধারিত স্থগিতাদেশের সময়সীমা শেষ হওয়াকে বিমানবন্দর খোলার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের আপাতত ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা, ভিসা ও ইকামার মেয়াদ খেয়াল রাখা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা এলেও যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিশ্চিতকরণ নিয়ে তারপর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া উচিত।
