তথ্যপ্রযুক্তি
ফিনল্যান্ডে গুগলের দুই ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ
ফিনল্যান্ডে নির্মাণাধীন দুটি ডেটা সেন্টারের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ পেয়েছে গুগল। দেশটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই

ফিনল্যান্ডে নির্মাণাধীন দুটি ডেটা সেন্টারের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ পেয়েছে গুগল। দেশটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই এ নির্দেশ এলো।
মঙ্গলবার ফিনল্যান্ডের লাইসেন্সিং অ্যান্ড সুপারভিশন এজেন্সি (এলভিভি) গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান টুইকে ফিনল্যান্ড ওয়াইকে এই নির্দেশ দেয়। সংস্থাটি জানায়, মুহোস ও কায়ানিতে নির্মাণাধীন ডেটা সেন্টার দুটির পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ স্থগিত রাখতে হবে।
এলভিভির নির্দেশ অনুযায়ী, গাছ ও মাটির ওপরের স্তর অপসারণ, খনন, পাথর উত্তোলন ও ভাঙা, মাটি সরানো, নালা তৈরি এবং সড়ক ও সংরক্ষণ এলাকা নির্মাণের মতো কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
গুগলের এক মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ তারা বুঝতে পারছেন এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের নির্ধারিত উচ্চমান বজায় রাখতে পারেনি। এলভিভির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
গুগল বলেছে, বন আইন মেনেই তারা কাজ করছিল এবং প্রকৃতি নিয়ে জরিপের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকাগুলো সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মুহোস এলাকায় ১৩০ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
তবে এলভিভির নির্দেশে পরিকল্পনা, পরিমাপ, মাটি পরীক্ষা বা সহজে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায়—এমন ছোটখাটো প্রভাবের কাজগুলো বন্ধের আওতায় রাখা হয়নি। পরিবেশ বিভাগের প্রধান তোম্মি মুইলু বলেন, গুগলের কিছু কার্যক্রম পরিবেশে পরিবর্তন আনতে পারে। এসব প্রভাব চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করাই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
‘ইউরোপের টেক্সাস’ ফিনল্যান্ড
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে ফিনল্যান্ড। দেশটিতে তুলনামূলকভাবে পর্যাপ্ত জমি ও বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।
সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে কয়েকটি বড় ডেটা সেন্টার প্রকল্পের ঘোষণা এসেছে, যেগুলোর সম্ভাব্য সক্ষমতা কয়েক শ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় ফিনল্যান্ডকে অনেক সময় ‘ইউরোপের টেক্সাস’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসও এআই ডেটা সেন্টারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠান সেখানে বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
ফিনল্যান্ডে গুগলের ঘোষিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে ইউরোপে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই অর্থ ডেটা সেন্টার নির্মাণের পাশাপাশি জ্বালানি প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার কথা জানিয়েছে গুগল।

